মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদহার কমিয়েছে। তা সত্ত্বেও আর্থিক খাতে অস্থিরতা এবং ভূরাজনৈতিক ও পুনঃঅর্থায়ন ঝুঁকি কমছে না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি ফিচ রেটিংসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
বুধবার ফিচ রেটিংস তাদের রিস্ক হেডকোয়ার্টার্স প্রতিবেদনে বলেছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোন ও অন্যান্য প্রধান অর্থনীতি সুদহার কমিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে সহায়তা এবং আরো স্থিতিশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও ঋণ পরিবেশ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বিনিয়োগকারীদের আস্থার উন্নতি সত্ত্বেও চলমান ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, চীনে মূল্যস্ফীতি হ্রাসের চাপ এবং পুঁজিবাজারে অস্থিরতা রয়েছে। উপরন্তু অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ইঙ্গিত দিচ্ছে, আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হতে পারে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন নির্বাচন এবং আগামী বছর নতুন কংগ্রেস ও প্রশাসনের নিতে যাওয়া অর্থনীতিসংশ্লিষ্ট নীতিগুলো স্বল্পমেয়াদে অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হয়ে উঠবে। এসব নীতি ঋণমানের ভবিষ্যৎ প্রবণতায়ও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে।
ফিচ রেটিংসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আগামী বছর সংরক্ষণবাদী বাণিজ্য নীতি আরো কঠোর করলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রধান বাণিজ্য প্রতিযোগীরা আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে।
এতে আরো বলা হয়, রাজস্ব ও অভিবাসন নীতি অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়লে সুদহার কমানোর গতিও বেড়ে যেতে পারে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা প্রভাবিত হতে পারে।